১ম খুতবাহ
আমরা
সবাই ফিলিস্তিনের হৃদয়বিদারক অবস্থা প্রত্যক্ষ
করছি। পশ্চিমা ঔপনিবেশিক এবং আরব শাসকদের
দ্বারা সমর্থিত বিশ্বের পূর্ণ মদদে ইসরায়েল পরিচালিত গাজায় গণহত্যা চলছে। নির্বিচারে বোমা হামলার শিকার
হচ্ছে ফিলিস্তিনি জনগণ। ইসরায়েলি আগ্রাসনে মোট হতাহতের সংখ্যা
প্রায় ৪,০০০ মৃত্যু এবং ১২,০০০ আহত
হয়েছে এবং ৭০% শিকার
শিশু, মহিলা এবং বয়স্ক। গত
১৬ বছর ধরে ইসরায়েল
কর্তৃক উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হওয়া বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে কয়েক দিনের ব্যবধানে হাজার হাজার বোমা গাজায় ফেলা
হয়েছে।
নবীদের
দেশ পবিত্র ফিলিস্তিনের ভুমি
রক্ষা করতে গিয়ে তারা
শহীদ হচ্ছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের
গুনাহ মাফ করে জান্নাতের
সুউচ্চ মাকাম দান করুন ইনশা-আল্লাহ।
আল্লাহ সুবহানু
ওয়া তা’লা বলেছেন, “আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত বলনা, বরং তারা জীবিত;
কিন্তু তোমরা তা অবগত নও।“ সুরাহ বাকারা আয়াহ ১৫৪।
ভাইয়েরা,
আমরা যখন ফিলিস্তিনের মুসলমানদের
জন্য প্রার্থনা করি এবং দাতব্য
সংস্থাকে সাদাকা দিই, তখনও আমাদের
মধ্যে- মুসলিম উম্মাহর মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
কারণ ইসরাইল একা নয়। ইসরায়েল
এটি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং সমস্ত পশ্চিমা
বিশ্বের সরাসরি সাহায্যে এবং তাদের মিডিয়ার সমর্থনে। ইসরাইল ফিলিস্তিনে বিমানে বোমা বর্ষণ করছে
এক দিকে, আর আরেকদিকে
মিডিয়া প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে গোটা বিশ্বে বোমা
বর্ষণ করছে । এই মিডিয়া কেম্পেইন এর কারনে অধিকাংশ অমুসলিম বিশ্বাস করে যে ইসরায়েলের
আত্মরক্ষার অধিকার আছে। এবং কিছু
মুসলিম, এমনকি কিছু শেখ এবং
রাজনৈতিক নেতারাও একই রকম মনে
করেন। তাদের অনেকেই হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। বিপরীতে, আমাদের কাজ হল আমরা ফিলিস্তিনের মুসলিম ভাইদের সম্মান রক্ষা করি এবং সোচ্চার
হই।
কেন ফিলিস্তিনিদের
আক্রমন করা যায়েজ ?
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর
কাছে এসে বলল, ‘আল্লাহর
রসূল, এমন একজন ব্যক্তি
সম্পর্কে আপনার কি ধারণা, যে
আমার সম্পদ নিতে আসে?
তিনি
(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ
তোমাদের ধন-সম্পদ তার
কাছে সমর্পণ করো না।
লোকটি
জিজ্ঞেস করল, 'যদি সে আমার
সাথে যুদ্ধ করে?'
তিনি
বললেনঃ তাহলে (তার সাথে যুদ্ধ
কর)।
লোকটি
আবার জিজ্ঞেস করল, ‘আমাকে মেরে ফেললে তোমার
কি মনে হয়?’
তিনি
বললেনঃ তুমি শহীদ হবে।
লোকটি
আবার জিজ্ঞেস করলো, 'আমি যদি তাকে
হত্যা করি তাহলে তোমার
কি মনে হয়?'
তিনি
বললেনঃ সে জাহান্নামে থাকবে।
ভাইয়েরা,
এছাড়াও পশ্চিমা বিশ্বের মানবাধিকারের জন্য তাদের মিথ্যা আর্তনাদকে উন্মোচন করতে হবে। তারাই দুষ্কর্মকারী, তারাই ফাসাদ সৃষ্টিকারী। আমাদের সকলের প্রতিবাদে অংশ নেওয়া দরকার,
ফিলিস্তিনি ভাইদের সম্মান
রক্ষার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায়
সক্রিয় হওা দরকার, তাদের মিডিয়া পৃষ্ঠাগুলিতে মন্তব্য করা উচিত যে
তারা মিথ্যাচার করছে সে সম্পর্কে
আমরা মুসলমানরা সচেতন। আমরা যদি গুরুত্বপূর্ণ
সময়ে নীরব থাকি তবে
সময়ের দাবিতে সত্য কথা না
বলার জন্য আমাদের জবাবদিহি
করতে হবে।
আল্লাহ আজ্জা
ওয়া জাল বলেছেন, “এবং যখন তাদেরকে বলা হয়ঃ তোমরা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করনা তখন
তারা বলেঃ আমরাতো শুধুই শান্তি স্থাপনকারী”। সুরাহ বাকারা, আয়াহ ১১.
আরেকটি
বড় ধরনের ভাওতাবাজি হল পশ্চিমা
বিশ্ব বাকস্বাধীনতাকে সমর্থন করে এটা মনে করা । কিন্তু যখন
তারা বুঝতে পারে যে এটি
ইসরায়েলের করা জঘন্য এবং
ভয়ঙ্কর অপরাধগুলি প্রকাশ করবে, তখন তারা অনেকগুলি
ফেসবুক পেজ সীমাবদ্ধ করে,
তাদের মধ্যে একটি হল "আল
কুদস নেটওয়ার্ক" যা খুব জনপ্রিয়
ছিল এবং লক্ষ লক্ষ
ফলোয়ার ছিল। পশ্চিমা মিডিয়া আমাদের প্রিয় নবী
(সাঃ) কে অপমান করতে
পারে কিন্তু ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যায় এমন খবরকে
তারা প্রকাশ করার অনুমতি দেয় না। কিন্তু
তারা বাক ও মত
প্রকাশের স্বাধীনতার প্রচার করে বলে বুলি আওড়ায়।
আমাদের
জোরে জোরে বলতে হবে
যে ইসরায়েলের অস্তিত্বও থাকা উচিত নয়
এবং তাদের অবৈধ দখলকৃত জমির
প্রতিটি ইঞ্চি মুসলমানদের। বেলফোর ঘোষণার পর, ১৯৪৮ সালে
সাইকস-পিকট চুক্তি এর ফলে আল-নাকবা সংঘটিত হয়েছিল, প্রায় ৭৫০,০০০ ফিলিস্তিনিদের ব্যাপকভাবে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয় যারা তাদের নিজস্ব
মাতৃভূমি থেকে উদ্বাস্তু হয়েছিলেন।
একটি পরম বিপর্যয়. তারপর
থেকে, স্থানচ্যুতি, অবরোধ, হত্যা, গোলাবর্ষণ, বোমাবর্ষণ, সাদা ফসফরাস রকেট
এবং আরও অনেক কিছুই
স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
আমরা শাবরা-শথিলা গণহত্যাও জানি যখন একদিনেই
৩,৫০০ মুলসিম নিহত হয়েছিল।
সুতরাং,
গাযার নৃশংসতা, রক্তপাত, হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ এবং যা ঘটছে
তা সত্যিই অবাক করা উচিত
নয় কারন তা ইতিহাসের সাথে যায়। জাতিসংঘের রেজুলেশন অবৈধ ইসরায়েল রাষ্ট্রের
বৈধতা দিয়েছে। ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি মিশর এবং অন্যান্য
মুসলিম প্রতিবেশী দেশকে নীরব করে ইসরায়েলকে
সমর্থন দিয়েছে। ইসরায়েল এবং পিএলওর (PLO) মধ্যে
অসলো চুক্তি সাধারণ মুসলমানদের জন্য একটি ভাওতাবাজি এবং উম্মাহর সাথে
ব্যাপকভাবে ভন্ডামী ছাড়া কিছুই নয়। PLO আসলে ইসরায়েলের জন্য কাজ করে
এমন একটি ভয়ের কাক
ছাড়া আর কিছুই নয়।
আরব লীগ এবং ওআইসি
বরাবরের মতো অকেজো, কারণ
আমরা দেখেছি যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
যখন আফগানিস্তান এবং ইরাকের বিরুদ্ধে
যুদ্ধ চালায় তখন তারা কিছুই
করেনি। তদুপরি, সৌদি ইরাকে আক্রমণ
করতে সহায়তা করেছিল, পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তানে আক্রমণ করতে সহায়তা করেছিল,
তুরস্ক সিরিয়ায় আক্রমণ করতে সহায়তা করেছিল
ইত্যাদি - সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অজুহাতে। তারা সবাই তাদের
ভূমি মার্কিন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দিয়েছে।
তারা
কি ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র খুঁজে পেয়েছে? তারা কি ওসামা
বিন লাদেনকে আফগানিস্তানে খুঁজে পেয়েছে কিন্তু ঠিকই ২০ বছর
ধরে মুসলমানদের হত্যা করছে। এই ২০ বছরের সন্ত্রাসের
বিরুদ্ধে যুদ্ধে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র
(যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া রয়েছে) ১১ মিলিয়ন মুসলমানকে
হত্যা করেছে এবং ৩০ মিলিয়ন মুসলমানকে
তাদের বাড়ি থেকে বাস্তুচ্যুত করেছে
এবং প্রতি ঘন্টায় ৩টি বোমা ফেলেছে।
আর ইসরাইল একই টেকনিক ব্যবহার
করছে – হামাসের নামে মুসলমানদের হত্যা
করছে, গত ৬ দিনে
শেষ ৬০০০ বোমা – যা পারমাণবিক বোমার
এক চতুর্থাংশ।
২য় খুতবাহ
তাহলে
গাজ্জার মুসলিম ভাইদের জন্য আমরা কি করতে পারি?
আমাদের
মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী দান করেছেন, দোয়া
করছেন- তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ছেন রোজা রাখছেন, ইসরায়েলি
পণ্য বয়কট করছেন, চেঞ্জ.কম এর মাধ্যমে এমপিদের লবিং করছেন কিন্তু আমরা একটি জিনিস
সর্বদা উপেক্ষা করি - যা আল্লাহ সুবহানাহু
ওয়া তালা কুরআনে নির্ধারণ
করেছেন এবং যা হচ্ছে এই মুহূর্তে ফরয দায়িত্বঃ
তোমাদের কি
হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করছনা? অথচ নারী, পুরুষ এবং শিশুদের মধ্যে যারা
দুর্বল তারা বলেঃ হে আমাদের রাব্ব! আমাদেরকে অত্যাচারী এই নগর হতে নিস্কৃতি দিন এবং
স্বীয় সন্নিধান হতে আমাদের পৃষ্ঠপোষক ও নিজের নিকট হতে আমাদের জন্য সাহায্যকারী প্রেরণ
করুন। সুরাহ আন নিসা, আয়াহ ৭৫.
কিন্তু কে
যুদ্ধ করবে? উত্তর হল মুসলিম বাহিনী।
মুসলিম উম্মাহ প্রস্তুত, তারা রেগে ফুশছেন। তারা জর্ডান, লেবানন,
ইরাক, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, এমনকি শিকাগো, লন্ডন এবং সিডনিতেও ব্যাপক
বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছে। তারা
স্লোগান দেয় ‘ ফিলিস্তিন মুক্ত হোক” (Free Palestine)
। কিন্তু ফিলিস্তিনকে মুক্ত করবে কে?
তা হতে দিচ্ছে না
দুর্নীতিবাজ আরব শাসক, মুসলিম
দেশগুলোর শাসকরা। তারা ইসরায়েলের মিত্র।
প্রেসিডেন্ট এরদোগান, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, বাদশাহ
আবদুল্লাহ, প্রেসিডেন্ট সিসি—সবাই ভন্ড। আমাদের
উচিত তাদের প্রকাশ্যে মুখোশ
উন্মোচন করা। আমাদের
তাদের জবাবদিহি করতে হবে। আপনার
শত্রু এবং শত্রুর মিত্র
কারা আপনাদের জানার
এটাই উপযুক্ত সময়। এমনকি বাংলাদেশ ইসরায়েলকে সহায়তা করার জন্য জাতিসংঘের
অধীনে কাজ করার জন্য
নৌবাহিনীর একটি প্লাটুন পাঠিয়েছে
- আপনি কি কল্পনা করতে
পারেন?
ইসলামের
ভাইয়েরা, আমরা কেন ফিলিস্তিনকে
মুক্ত করার জন্য মুসলিম
সেনাদের আহ্বান করব? কেন আমরা
উম্মাহকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাব? কারণ রাসুলুল্লাহ সাঃ
প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন খিলাফতের পরবর্তী রাজধানী হবে জেরুজালেম।
রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “এই খিলাফত আমার
পরে আল-মদীনায়, তারপর
আল-শামে, তারপর উপদ্বীপে, তারপর ইরাকে, তারপর নগরী (কনস্টান্টিনোপল) পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বায়তুল মাকদিস। সুতরাং, যদি এটি বায়তুল-মাকদিসে পৌঁছায়, তবে এটি তার
(প্রাকৃতিক বিশ্রামস্থলে) পৌঁছে যেত।
রসুলুল্লাহ
সাঃ এর অফাতের পর রাশিদুন খিলাফাত এর রাজধানি ছিল মদিনা, এর পর উমাইয়া ক্ষিলাফতের রাজধানি
ছিল দামেস্ক (সিরিয়া), তার পর আব্বাসি খিলাফতের রাজধানি ছিল বাগদাদ (ইরাক), এর পর উসমানি
খিলাফতের রাজধানি ছিল ইস্তানবুল (তুরস্ক)। যা হাদিসের সাথে মিলে যায় আর মিলারই কথা।
এখন শুধু বায়তুল মাকদিস (এখন কার ফিলিস্তিন) এ খিলাফত এর রাজধানি হয় নি। ইনশাআল্লাহ,
ফিলিস্তিন জিয়োনিস্ট দের কবল থেকে মুক্ত হবে তা নিশ্চিত । কিন্তু কবে হবে তা আমাদের
উপর নির্ভর করছে।
আল্লাহ আমাদের
কে ফিলিস্তিন কে মুক্ত করার নিষ্টাবান মুসলিমদের অতর্গত করুন। আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’লা
ফিলিস্তিন এর মুসলিম যারা প্রান হারিয়েছেন তাদের শহিদ হিসেবে কবুল করুন, আমিন।
No comments:
Post a Comment